টেসলা জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫৬ সালের জুলাই এর ১ তারিখে, ক্রোয়েশিয়ার একটি গ্রামে। তিনি মূলত একজন সার্বিয়ান-আমেরিকান। তিনি একাধারে একজন প্রকৌশলী, আবিষ্কারক এবং পদার্থবিদ। টেসলা মূলত দিক পরিবর্তী বা পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ প্রবাহে (Alternating Current) তার অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

টেসলা অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। তিনি তার জীবনের শেষ ১০ টি বছর কাটান হোটেল নিউ ইয়র্কের ৩৩২৭ নম্বর রুমে। তার মরদেহ এই রুম থেকেই উদ্ধার করা হয় পরে। তার জীবনের উপর ভিত্তি করে বহু উপন্যাস লেখা আর সিনেমা বানানো হয়েছে। ১৯৬৩ সালে তড়িৎ চৌম্বক ক্ষেত্রের একক হিসেবে ‘টেসলা’ কে এস আই ইউনিটে আন্তর্জাতিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।

টেসলার এসব আবিষ্কারের কথা তো সবারই জানা। চলো আজকে জেনে আসি টেসলার কিছু বিচিত্র তথ্য। এই তথ্যগুলো অনেকেরই অজানা।

১৯৩১ সাল। অল্টারনেটিং কারেন্ট (এসি) ও নানা বৈজ্ঞানিক থিউরি যন্ত্রের আবিষ্কারক মেকানিক্যাল এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার নিকোলা টেসলা এক প্রেস কনফারেন্সে বললেন, তিনি একেবারে নতুন ধরনের এক শক্তি আবিষ্কার করতে চলেছেন। এর কয়েক বছর পরের কথা, ইউরোপের আকাশে তখন ঘনিয়ে এসেছে যুদ্ধের মেঘ। ১৯৩৪ সালের ১১ জুলাই ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র প্রথম পাতায় ছাপা হল একটা স্টোরি। স্টোরিটা ছিল এরকমÑ টেসলা ফাঁকা জায়গায় বাতাসের মধ্য দিয়ে প্রচণ্ড শক্তিশালী এনার্জি পাঠাবেন, যা ২০০ মাইল দূর থেকে শত্র“পক্ষের ১০ হাজার প্লেন ধ্বংস করে দেবে। এটাই ডেথ রে।

১৮৮৭ সালে টেসলা নিউইয়র্ক সিটিতে একটা ল্যাবরেটরি তৈরি করেন। ১৮৯১ সালে তিনি ফ্লুরোসেন্ট লাইট, নতুন ধরনের স্টিম ইঞ্জিন, অল্টারনেটিং কারেন্ট পাওয়ার ট্রান্সমিশন ইত্যাদি আবিষ্কার করেন। ১৯০০ সালে ডেথ রে তৈরির জন্য টেসলা লং আইল্যান্ডে ওয়্যারলেস ব্রডকাস্টিং টাওয়ার তৈরির প্রজেক্টের জন্য জে পিয়েরপন্ট মরগ্যান নামে এক ধনী ব্যক্তির কাছ থেকে মূলধন হিসেবে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পেলেন। কিন্তু ওই প্রজেক্ট অসম্পূর্ণই থেকে গেল। কারণ মরগ্যান আর্থিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করে দিলেন। এরপর টেসলা সেই সময়ের ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলিনের কাছে গিয়ে তার আবিষ্কারের কথা জানালেন। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই নেভিল পদত্যাগ করায় টেসলার স্বপ্ন সার্থক হল না।

পরে তিনি এই ডেথ রে-সংক্রান্ত যাবতীয় টেকনিক্যাল পেপার ও ডায়াগ্রাম আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং যুগোস্লাভিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। টেসলা বলেছিলেন, এই ডেথ রে বা ডেথ বিম পৃথিবী থেকে যুদ্ধ নিশ্চিহ্ন করে দেবে। এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের যুদ্ধ আর কোনওদিনও হবে না। কারণ এই ডেথ রে-এর সাহায্যে প্রত্যেক দেশে একটা করে ‘অদৃশ্য চাইনিজ ওয়াল’ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আর তা হলে তো এই বিমের নাম হওয়া উচিত ‘পিস বিম’। তবে তিনি যেটাকে পিস বিম বলেছিলেন, এখন সেটাকেই বলা হয় ‘চার্জড পার্টিকল বিম ওয়েপন’।

টেসলা চেয়েছিলেন ওয়্যারলেস ইলেকট্রিসিটির সাহায্যে মানে, কোনওরকম তার ছাড়াই বহু দূরে ইলেকট্রিসিটি বিম ছুড়ে শত্র“পক্ষের বিমান ধরাশায়ী করতে। সোজাসুজি ২০০ মাইল দূর পর্যন্ত নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবে এই বিম, চারদিকে ছড়িয়ে যাবে না। ডেথ রে তৈরি করতে যে যন্ত্রের কথা বলেছিলেন টেসলা, সেটা ছিল খুব সম্ভবত এক ধরনের পার্টিকল অ্যাকসিলারেটর। তবে শেষ পর্যন্ত তার এই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। অনেক গবেষক বলেন, টুঙ্গুস্কার বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের পেছনে রয়েছে টেসলার ডেথ রে এক্সপেরিমেন্ট। খুব সম্ভবত পরীক্ষা চালানোর সময় তার ডেথ রে নির্দিষ্ট দূরত্বের চেয়েও দূরে পৌঁছে আঘাত হেনেছিল সাইবেরিয়ার ওই অঞ্চলে। সত্যিই কি টেসলা তৈরি করে ফেলেছিলেন তার ডেথ রে মেশিন?

কথিত আছে, টেসলার জন্ম হয় প্রচণ্ড ঝড় ও বজ্রপাতের রাতে। এরকম ঘটনাকে অশুভ সংকেত মনে করে সেই সময়ে ধাত্রী টেসলাকে ‘অন্ধকারের সন্তান’ (Child Of Darkness) বলেন। কিন্তু এতে টেসলার মা অপমানিত বোধ করে এর বিরোধিতা করে বলেন, টেসলা হবে ‘আলোর সন্তান’(Child of Light); টেসলার মায়ের সেই ভবিষ্যৎ বানী যে কতটা কার্যকর ছিল তা নিশ্চয়ই আর বলার অপেক্ষা রাখে না !