Freezing crocodile

কুমিরের ২৩ টা প্রজাতির মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় ৩টি প্রজাতি – লোনা পানির কুমির, মিঠা পানির কুমির আর ঘড়িয়াল। ২৩ টি প্রজাতির মধ্যে বাণিজ্যিক ভাবে চাষ হয় সাতটি প্রজাতির, তার মধ্যে লোনা পানির কুমীরের চামড়ার দাম সবচেয়ে বেশী। অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, পাপুয়া নিউ গিনি আর বাংলাদেশে লোনা পানির কুমির চাষ হয়। যদিও পৃথিবীর প্রায় চল্লিশটি দেশে কুমির চাষ হয়, অন্যান্য প্রজাতির।

কুমীরের চামড়া এর প্রধান বিক্রয়যোগ্য উপকরণ। ডিমফুটে বের হওয়ার পর প্রায় তিন বছর পর একটা কুমির বিক্রি উপযোগী হয়। তখন কুমিরটাকে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মেরে এর চামড়া আর মাংস আহরণ করা হয়। কুমীরের চামড়া মানুষ ব্যাবহার করছে প্রায় ২০০ বছর ধরে, কিন্তু কুমীরের বাণিজ্যিক ফার্মের প্রচলন ৬০এর দশকের শেষ দিকে, উত্তর আমেরিকাতে।

লোনা পানির কুমীরের চামড়ার সবচেয়ে রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া, আর সবচেয়ে বড় আমদানিকারক দেশ ফ্রান্স।  CITES কনভেনশনের আওতায় কুমীরের ব্যাবসা পরিচালিত হয়।

২০০৯ সালে হাইডেলবার্গ ইউনিভারসিটি থেকে বিভিন্ন মাপের কুমির চেয়ে একটা ইমেইল পাঠাল। দেখলাম কয়েকটা ছাড়া সবগুলাই আমরা রপ্তানি করতে পারব। packaging এর ক্ষেত্রে তাদের বেশ কিছু শর্ত ছিল। তাদের বলা ছিল কুমির গুলো আস্ত হিমায়িত অবস্থায় জার্মানি পাঠাতে হবে। কুমীরের চেয়ে packaging বেশী জটিল হয়ে গেল। তাদের শর্ত ছিল কুমির কে মারার আগে শুকরের মাংস খাওয়াতে হবে। মারার জন্য একটা বিশেষ ইনজেকশন ব্যাবহার করতে হবে, আর ড্রাই আইস দিয়ে কাঠের বাক্সে করে পাঠাতে হবে। তাও আবার ফার্মে কুমির মারার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা জার্মানি পৌঁছাতে হবে। Continue reading “বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমির চাষ এবং সফলতার গল্প (পর্ব-৪)”

crocodile eggs

দুইটা কুমির কম পেলাম, প্রায় আমাদের ঘুম হারাম। চারিদিকে খোজা শুরু হলো, ঘণ্টাখানেক পর একটা পাওয়া গেলো পূর্ব দিকের ধান খেতে। মাঠের শ্রমিকরা মাত্র ধান কাটতে গেছে, ধান ক্ষেতে দ্যাখে কুমির। কোন রকম দুর্ঘটনা ছাড়াই আমরা সেটাকে উদ্ধার করি — কিন্তু তারপরও একটা কুমির কম। দুপুর নাগাদ ফার্ম থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পশ্চিম দিকে পাওয়া গেলো আরেকটা কুমীরের। অল্পের জন্য সেখানে কোন দুর্ঘটনা ঘটে নাই, কারণ পাশেই বাচ্চারা খেলছিল।

২০০৫ সালটা আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষার বছর ছিল। ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের EEF Fund এর অনুমোদন হলো। ভাবলাম তিন সপ্তাহের মধ্যেই টাকা ছার হয়ে যাবে, সেটা হতে সময় নিলো ছয় মাস। এদিকে প্রায় প্রতি মাসেই কুমির মারা যাচ্ছে। ২০০৫ সালে কোন কুমির ডিম পারে নাই। আমরা যোগাযোগ করলাম জিওফ ম্যাকলেরের সাথে, যে ৩৫ বছর কুমীরের ফার্মে কাজ করে বর্তমানে অবসর জীবন যাপন করছেন।

২০০৬ সালের ৩রা অগাস্ট সকালে ফোন করে বললো – একটা কুমির ডিম পেড়েছে। ডঃ রশিদ, লিপা আর আমি ফার্মের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। ফার্মে পৌঁছানোর পর সদলবলে A2 পুকুরেরর কাছে গিয়ে দেখি — কুমির তার ডিম পাহারা দিচ্ছে। ডঃ রশিদের নেতৃত্বে ডিম মার্ক করে তোলা হলো, মোট ৩৯ টা ডিম হয়েছিল। Continue reading “বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমির চাষ এবং সফলতার গল্প (পর্ব-৩)”

Crocodile baby

প্রথম দিন মাঠে গিয়ে কিছু বিরল অভিজ্ঞতা হলো। কোথা থেকে শুরু করবো। একটা জায়গা ঠিক করলাম,যেখানে টিউব ওয়েল বসানোর কাজ শুরু হলো। আরেক দিকে জঙ্গল পরিষ্কারের কাজ। দড়ি টেনে, খুঁটি গেড়ে চেষ্টা করলাম কাগজের ড্রয়িং টাকে মাটিতে বসানোর।

তারপর মনে হলো দুপুরে খাব কোথায়? আমাদের জমির পাশেই ছিল নাতুদের বাড়ি, সেও এখানে কাজ করছিল, সে আমাদেরকে তার বাসায় খেতে বললো। খুব মজা করে দেশি মুরগির ঝোল (অনেক ঝাল), ডাল আর ভাত। গাছের নিচে, মাদুর পেতে সবাই মিলে খেলাম। নাতুর বউ রান্না করেছিলো, আমাদের কাছ থেকে শুধু মুরগিটার দাম নিয়েছিল। কয়েক বছর আগে নাতু মারা গেছে, বেশ কিছুদিন অসুখে ভুগে। আমাদের কাছে নাতুকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে নাকি আগে গাছ চুরি করতো, ডাকাত ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি তাকে সবসময় বিশ্বস্ত কর্মচারী হিসাবেই পেয়েছি। অসম্ভব সাহসী।

আমরা উথুরা ইউনিয়নের হাতিবের মৌজার ৫৬১ নং দাগের ৬ একর জমি প্রথমে কিনেছিলাম আর বাকি ৭.৪০ একর জমি বায়না করেছিলাম। একই দাগে আরও ০.২৮ একর বন বিভাগের জমি ছিল যা নাকি করা demarcated ছিল না । আমাদের কাজ শুরু আগেই জমি বিক্রেতা বন বিভাগ কে চিঠি দিয়েছিলো, বন বিভাগের জমি demarcate করার জন্য। বন বিভাগের এই জমি ফেরত দিতে আমাকে অনেক কাঠ খড় পোড়াতে হয়েছে।

অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়টা খুব কম ছিল ফার্ম তৈরি করার জন্য, অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী বলছিল কুমির আমদানি পেছানোর জন্য। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম কুমির ডিসেম্বর মাসেই আনা হবে, সেই হিসাবে রাত দিন কাজ শুরু হলো। ১৪ টা বিভিন্ন মাপের পুকুর হবে। যার মধ্যে কোনটাতে দুইটা থেকে শুরু করে কোনটাতে ৭টা কুমির থাকবে। একটা টিনের ঘর তোলা হলো, যেখানে সিমেন্ট আর মাটি কাটার অন্যান্য যন্ত্রপাতি থাকত। এখানে একটা টেবিল আর একটা চৌকি ছিল। এটাই রেপ্টাইলস ফার্মের প্রথম অফিস। এটার কোন দরজা ছিল না। আমিও এখানে রাত কাটিয়েছি । Continue reading “বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমির চাষ এবং সফলতার গল্প (পর্ব-২)”

Crocodile Farming

২০০২ সালের জুলাই মাসে চাকরী ছেড়ে আমার গুরুর সাথে দেখা করতে গেলাম। আমার গুরু রম্য ভাই জিজ্ঞেস করল কি করবি? বললাম বন্যপ্রাণী নিয়ে কিছু করবো। ধানমণ্ডি আট নাম্বার ব্রিজের দক্ষিণ দিকে দাঁড়িয়ে দুইজনে সিগেরেট খাচ্ছিলাম। গুরু বললো কুমিরের ফার্ম কর। কথাটা পছন্দ হলো। এখনকার সাম্পান রেস্টুরেন্ট এর পাশে তখন একটা সাইবার ক্যাফে ছিল, ওখানে বসে ঘাটাঘাটি শুরু করলাম। সেই শুরু বাংলাদেশের প্রথম কুমিরের ফার্মের।

আমি কখনো বায়োলজি পড়াশুনা করিনি। কিন্তু সুন্দরবনে গাইড হিসাবে কাজ করার সুবাদে অনেক প্রাণী বিজ্ঞানীকেই চিনতাম। কুমিরের ফার্মের চিন্তা মাথায় ঢোকার পর প্রথমেই গেলাম আনিস ভাইয়ের কাছে। আনিস ভাই আমাকে লাঞ্চ করতে নিয়ে গেলেন আর প্রাথমিক ধারনা দিলেন। ডঃ রেজা খান সারের কথা বললেন, রমুলাস হুইটেকার এর কথা বললেন, আর বললেন কোথায় নিয়ম কানুন গুলো জানা যাবে।

আনিস ভাইয়ের সাথে কথা বলার পর আমার উৎসাহ আরো বেড়ে গেলো। যোগাযোগ করলাম রেজা খান স্যার এর সাথে। রেজা খান স্যার কে আমি ই-মেইল এ নানা রকম প্রশ্ন করি, উনি উত্তর দিতেন। ইন্টারনেট এ ঘাটাঘাটি করে CSG (Crocodile Specialist Group) এর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করলাম।এই যোগাযোগের উপর ভিত্তি করেই ২০০২ সালের নভেম্বর নাগাদ একটা business plan দাঁড় করিয়ে ফেললাম। হিসাব করে দেখলাম আমার প্রয়োজন এক মিলিয়ন ডলার আর ১৪/১৫ একর জমি। রেজা খান স্যার একটা স্কেচ পাঠালেন, কুমীরের বাণিজ্যিক ফার্মে কি কি থাকতে হবে তার লিস্ট দিয়ে। ঐ সময়ে USAID এর একটা প্রোজেক্ট agro business plan competition আয়োজন করে। ওখানে বলা ছিল প্রথম দশজনকে পরকল্পনা বাস্তবায়নে USAID সহায়তা করবে। Continue reading “বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমির চাষ এবং সফলতার গল্প”

বিজ্ঞানী টেসলার অজানা কথা

টেসলা জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫৬ সালের জুলাই এর ১ তারিখে, ক্রোয়েশিয়ার একটি গ্রামে। তিনি মূলত একজন সার্বিয়ান-আমেরিকান। তিনি একাধারে একজন প্রকৌশলী, আবিষ্কারক এবং পদার্থবিদ। টেসলা মূলত দিক পরিবর্তী বা পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ প্রবাহে (Alternating Current) তার অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

টেসলা অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। তিনি তার জীবনের শেষ ১০ টি বছর কাটান হোটেল নিউ ইয়র্কের ৩৩২৭ নম্বর রুমে। তার মরদেহ এই রুম থেকেই উদ্ধার করা হয় পরে। তার জীবনের উপর ভিত্তি করে বহু উপন্যাস লেখা আর সিনেমা বানানো হয়েছে। ১৯৬৩ সালে তড়িৎ চৌম্বক ক্ষেত্রের একক হিসেবে ‘টেসলা’ কে এস আই ইউনিটে আন্তর্জাতিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।

টেসলার এসব আবিষ্কারের কথা তো সবারই জানা। চলো আজকে জেনে আসি টেসলার কিছু বিচিত্র তথ্য। এই তথ্যগুলো অনেকেরই অজানা। Continue reading “বিজ্ঞানী টেসলার সম্পর্কে কিছু কথা ও তার মৃত্যু রহস্য”

কদিন আগে ইনবক্সে একজন প্রশ্ন করেছিল ‘দুটো ঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যার লসাগু গসাগু কেমন হবে’ এই ব্যাপারটা নিয়ে। আরেকজন প্রশ্ন করেছে একটা সংখ্যা শূন্য হলে গসাগু কেমন হবে? এটা নিয়ে ছেলেবেলায় আমার নিজেরও দ্বিধা ছিল, এখন নেই। তাই ভাবলাম এখানে স্ট্যাটাস আকারে দিয়ে দিই। যারা জানতে চাও, জেনে নিয়ো, আর পারলে অন্যদের জানিয়ে দিয়ো।

ধরো, তোমায় কেউ জিজ্ঞেস করলো ১২ এবং -১৬ এর লসাগু বা গসাগু কত? ১৬ এর আগের ঋণাত্মক চিহ্ন দেখে মোটেই ঘাবড়ে যাবে না। জেনে রেখো, লসাগু বা গসাগু এমনভাবে সংজ্ঞায়িত যে, এরা কখনো ঋণাত্মক হয় না। ঋণাত্মক চিহ্নটা বাদ দিয়ে চিন্তা করলেই চলবে। মানে হলো ১২ আর ১৬ এর গসাগু যা, ১২ আর -১৬ এর গসাগুও তাই, -১২ আর ১৬ এর গসাগুও একই, -১২ আর -১৬ এর গসাগুও ঐ একই। এদের সবারই গসাগু ৪। লসাগুর ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একইরকম, সবক্ষেত্রেই লসাগু হবে ৪৮। ঋণাত্মক চিহ্ন বাদ দিয়ে ভাবলেই ঝামেলা শেষ। কিন্তু কেন এরকম? Continue reading “ঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যার লসাগু এবং গসাগু”

শেখ মুজিবুর রহমান

ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কী অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস, বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস-এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ৬দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ এর আন্দোলনে আয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গনতন্ত্র দেবেন – আমরা মেনে নিলাম। তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেলো, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলা নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো- এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজনও যদি সে হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব। জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো আলোচনা হবে। তারপরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, তাদের সঙ্গে আলাপ করলাম- আপনারা আসুন, বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো। Continue reading “শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ”

অনেক সময় আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানের নামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে। এই জানার ইচ্ছা থেকে গতকয়েকদিনে সংগ্রহীত তথ্য দিয়ে  ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত জেলাগুলোর নাম ও তাদের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে লিখলাম। এই লেখাটি সম্পর্কে আপনার কাছে কোন আপডেটেড তথ্য থাকলে কমেন্টে জানাবেন, আমি লেখাটিকে আপডেট করে দিবো ইনশাআল্লাহ …

১. ঢাকা জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ঢাকা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। বৃহত্তর ঢাকা জেলা ১৯৮৪ সালের পূর্বে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ মহকুমা নিয়ে গঠিত বাংলাদেশের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল। ১৯৮০ পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে মহকুমা প্রথা বিলুপ্ত হয়। এতে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ মহকুমা জেলায় পরিণত হয় এবং তৎকালীন ঢাকা জেলা বর্তমান রূপ লাভ করে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ সম্পর্কে প্রচলিত মতগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলোঃ

  • একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল;
  • রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানের নির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল;
  • ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানে প্রচলিত ছিল;
  • রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবা এলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা।

কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরের নাম ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।আবার অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর। Continue reading “ঢাকা বিভাগের জেলাসমূহের নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়

হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে,

হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে

কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।

হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়

সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।

আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে

জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়। Continue reading “আবার আসিব ফিরে”

প্রার্থনা

অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি

বিচার দিনের স্বামী।

যত গুণগান হে চির মহান

তোমারি অন্তর্যামী।

 

দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া

তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া

তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি

তোমারি করুণাকামী। Continue reading “প্রার্থনা”

হীরের হার

এক স্বর্ণকারের মৃত্যুর পর তার পরিবারটা বেশ সংকটে পড়ে গেল। খাদ্য-বস্ত্রে দেখা দিল চরম অভাব।

স্বর্ণকারের বিধবা স্ত্রী তার বড় ছেলেকে একটা হীরের হার দিয়ে বললোঃ এটা তোর কাকুর দোকানে নিয়ে যা, বলবি যে এটা বেচে কিছু টাকা দিতে। ছেলেটা হারটি নিয়ে কাকুর কাছে গেল।

কাকু হারটা ভালো করে পরীক্ষা করে বললোঃ বেটা, তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজার খুবই মন্দা, কয়েকদিন পর বিক্রি করলে ভাল দাম পাওয়া যাবে।

কাকু কিছু টাকা ছেলেটিকে দিয়ে বললেনঃ আপাতত এটা নিয়ে যাও আর কাল থেকে তুমি প্রতিদিন দোকানে আসবে আমি কোন ১দিন ভাল খদ্দোর পেলেই যেন তুমি দৌড়ে হার নিয়ে আসতে পার তাই সারাদিন থাকবে।

পরের দিন থেকে ছেলেটা রোজ দোকানে যেতে লাগলো। সময়ের সাথে সাথে সেখানে সোনা-রুপা-হীরে কাজ শিখতে আরম্ভ করলো। ভাল শিক্ষার ফলে অল্প দিনেই খুব নামি জহুরত বনে গেল। দূর দূরান্ত থেকে লোক তার কাছে সোনাদানা বানাতে ও পরীক্ষা করাতে আসত। খুবই প্রশংসীত হচ্ছিল তার কাজ। একদিন ছেলেটির কাকু বললোঃ তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজারের অবস্থা বেশ ভালো, তাই সেই হারটা যেন তোমার হাতে দিয়ে দেন। এখন এটা বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। Continue reading “নকল হীরের হার উদঘাটন এবং আত্বীয় সম্পর্ক রক্ষা”

© 2018 Micro Solutions Bangladesh and/or MCQ Academy.