International Workers Day

প্রতি বছর মে মাসের প্রথম তারিখ বিশ্ব শ্রমিক দিবস হিসেবে দিনটি বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে থাকে। ইতিহাসে এই দিনটি স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী শ্রমজীবী যে সকল মানুষ রয়েছে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ দেওয়া এক মহান দিন হলো মে দিবস। মে দিবস শুধুমাত্র একটি দিবসই নয় এই দিবসটি সকল শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, তাদের অধিকার, সকল প্রকার অত্যাচার-নিপীড়ন ইত্যাদির বিরুদ্ধে একটি সম্মিলিত মানবিক কার্যক্ষেত্র এবং একটি সুষ্ঠ সমাজ প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে সমাজের সকল শ্রমজীবী মানুষের বেচে থাকার স্বীকৃতি তা আদায়ের সংগ্রামের একটি প্রতীক। এই দিবসটি আমাদের বার বার শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার এবং শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক ও তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষেরা রাজপথে বিভিন্ন মিছিল, শোভাযাত্রায় অংশগ্রহন করে দিনটি উদযাপন করে। বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে পহেলা মে দিনটিকে জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় এবং বিশ্বের অনেক দেশেই এই দিনটি বেসরকারিভাবে পালন করা হয়।

মে দিবসের ইতিহাসঃ

উনিশ শতকের আদি সময়ের কথা। শ্রমিকদের তখনো ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটে নি। তখনো তারা শাসক দ্বারা শোষিত হতো। তাদেরকে সপ্তাহে ৬ দিন সাথে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০-১২ ঘন্টা কাজ করতে বাধ্য করা হত। কিন্তু তাদের এই কাজের বিনিময়ে পর্যাপ্ত কোনো মজুরি তারা পেত না। শ্রমিকদের উপর অত্যাচার-নিপীড়ন, হয়রানিসহ আরো অনেক বিষয় ছিল যা নিত্তদিনের ঘটনায় পরিনত হয়েছিল। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে পক্ষে তাদের নিয়ে কথা বলার মত কেউই ছিল না। পরবর্তীতে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে ১৮৬০ সালে তাদের যে পরিমানে মজুরি প্রদান করা হত তা ঠিক রেখে শ্রমঘন্টা ১০-১২ ঘন্টা থেকে কমিয়ে আট ঘন্টায় নিয়ে আসার জন্য দাবি জানায়। শ্রমিকদের এই কর্মঘন্টার দাবিটি বাস্তবে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি সংগঠনের প্রয়োজন ছিল। যার ফলশ্রুতিতে শ্রমিকরা মিলে ১৮৮০-১৮৮১ সালের মধ্যে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে। যার নাম দেওয়া হয় “The Federation of Organized Trades and Labor Unions“। পরবর্তীতে ১৮৮৬ সালে এই সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে “American Fedaration of Labor (AFL)” রাখা হয়। এই সংগঠন প্রতিষ্ঠার ফলশ্রুতিতে শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে বাস্তবে শক্তি অর্জন করতে সক্ষম হন। Continue reading “আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এবং মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”

পহেলা বৈশাখের ইতিহাস

পহেলা বৈশাখ, বাঙালির সমৃদ্ধশালী ইতিহাসের এক বিশেষ দিন। একটি জাতির পরিচয় তার সংস্কৃতিতেই। পৃথিবীর অন্যান্য জাতির তুলনায় বাঙালিদের সাংস্কৃতি একটু বেশিই সুষমামণ্ডিত। আর সেই অনবদ্যতার অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হিসেবে পালিত হয় এই পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখ হল বাংলা বছরের প্রথম মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ বৈশাখের ১ তারিখ তথা বাংলা নববর্ষ । নব মানে নতুন আর বর্ষ মানে বছর। নতুন বছরের নতুন দিনটি বাংলাদেশ এবং পার্শ্ববর্তীদেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ উৎসবের সাথে পালিত হয়। ত্রিপুরা রাজ্যেও দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সাথে পালিত হয়। এক কথায়, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল বাঙালিই এই পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করে। তাই একে বাঙালির সার্বজনীন উৎসব বলা হয়।

পহেলা বৈশাখের উৎযাপন

সম্রাট আকবরের শাসন আমলের পূর্ব থেকেই পহেলা বৈশাখ উৎযাপন করা হত। মুঘল আমলে কৃষকদের সকল কৃষি সংক্রান্ত কর ও খাজনা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হত আর ঠিক তার পরদিন পহেলা বৈশাখে নতুন করে আবার সকল হিসাব নিকাশ উদ্বোধন করা হত। বর্তমানে পহেলা বৈশাখের একটি উল্লেখ্য প্রথা হল নতুন হালখাতা। এই প্রথার প্রচলন ও তখন থেকেই হয়েছিল। হালখাতা মানে হল নতুন খাতা। অর্থাৎ সকল পুরনো হিসাব নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে হিসাবের খাতা খোলা। সেই ঐতিহ্যগত ভাবেই এই প্রথা আজও প্রচলিত আছে। Continue reading “পহেলা বৈশাখের ইতিহাস, উৎপত্তি এবং গ্রাম বাংলার বিভিন্ন উৎসব”

purity and measurement methods of gold

প্রাচীনকাল থেকেই সোনা একটি মূল্যবান ধাতু হিসেবে পরিচিত। সেই সময় থেকেই সম্পদ, ঐশ্বর্য, যশ, ক্ষমতা, ভালোবাসা ইত্যাদির প্রতীক হিসেবে সোনার প্রচলন ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি যে ক্ষেত্রে ব্যবহার হত তা হল অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। সোনা, যা পৃথিবীর ইতিহাসে পেয়েছে এক অদ্বিতীয় স্থান। মূল্যবান ধাতু হিসেবে এর রয়েছে এর সুদীর্ঘ ইতিহাস। সেই প্রাচীন মিশরীয় যুগ থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত খুব কম সংখ্যক ধাতুই আছে যার প্রভাব ইতিহাসে দেখা যায়।

ইতিহাস থেকে জানা যায় যুগ যুগ ধরে এই সোনা মানুষকে মনোমুগ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু পৃথিবীর ইতিহাসে কখন কোথায় সোনা প্রথম আবিষ্কার হয়েছিলো তার কোন সুস্পষ্ট প্রমান মেলে না। তবে ধারনা করা হয় যে প্রায় ৪০০০০ হাজার বছর পুর্বে প্রথম সোনা দেখা যায়। যেহেতু পৃথিবীর সব স্থানেই কম বেশি সোনা পাওয়া যায় তাই প্রায় সকল পৌরনিক কাহিনীগুলোতেই সোনার কথা উল্লেখ রয়েছে। Continue reading “স্বর্নের বিশুদ্ধতা এবং পরিমাপ পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেই”

ফিবোনাক্কি রাশিমালার আবিষ্কারক ত্রয়োদশ শতাব্দীর বিখ্যাত গণিতবিদ Leonardo Da Pisa. উনার ডাকনাম ফিবোনাক্কি। ১২০২ সালে Liber Abaci নামক পুস্তকটির মাধ্যমে তিনি পশ্চিম ইউরোপীয় গণিতকে “ফিবোনাক্কি সিরিজের” সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। যদিও এই পরিচয় করিয়ে দেবার অনেক আগেই ভারতীয় গণিতে এই রকম একটা সিরিজ বিদ্যমান রয়েছে বলে কথিত রয়েছে। ফিবোনাক্কি সিরিজ নিয়ে ফিবোনাক্কি সাহেব বলেছিলেন- “প্রকৃতির মূল রহস্য রাশিমালাতে আছে”।

মানুষের চেহারার সৌন্দর্য অথবা প্রকৃতির এই সৌন্দর্যের গাঢ় রহস্য খুজতে গেলে পাওয়া যাবে এর সোনালী অনুপাত (Golden Ratio)। এই ব্যাপারে ফিবোনাক্কি নিজেই বলে গেছেন যে প্রকৃতির মূল-রহস্য এই রাশিমালায় আছে। ফিবোনাক্কি সিরিজটি হল এই রকমঃ ০,১,১,২,৩,৫,৮,১৩,২১,৩৪, ৫৫ …… Continue reading “ফিবোনাক্কি রাশিমালা নিয়ে কিছু কথা”

শেখ মুজিবুর রহমান

ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কী অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস, বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস-এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ৬দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ এর আন্দোলনে আয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গনতন্ত্র দেবেন – আমরা মেনে নিলাম। তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেলো, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলা নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো- এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজনও যদি সে হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব। জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো আলোচনা হবে। তারপরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, তাদের সঙ্গে আলাপ করলাম- আপনারা আসুন, বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো। Continue reading “শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ”

প্রার্থনা

অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি

বিচার দিনের স্বামী।

যত গুণগান হে চির মহান

তোমারি অন্তর্যামী।

 

দ্যুলোক-ভূলোক সবারে ছাড়িয়া

তোমারি চরণে পড়ি লুটাইয়া

তোমারি সকাশে যাচি হে শকতি

তোমারি করুণাকামী। Continue reading “প্রার্থনা”

অনেক সময় আমাদের দেশের বিভিন্ন স্থানের নামের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে। এই জানার ইচ্ছা থেকে গতকয়েকদিনে সংগ্রহীত তথ্য দিয়ে  ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত জেলাগুলোর নাম ও তাদের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে লিখলাম। এই লেখাটি সম্পর্কে আপনার কাছে কোন আপডেটেড তথ্য থাকলে কমেন্টে জানাবেন, আমি লেখাটিকে আপডেট করে দিবো ইনশাআল্লাহ …

১. ঢাকা জেলার নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

ঢাকা জেলা বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলের ঢাকা বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল। বৃহত্তর ঢাকা জেলা ১৯৮৪ সালের পূর্বে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ মহকুমা নিয়ে গঠিত বাংলাদেশের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল ছিল। ১৯৮০ পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে মহকুমা প্রথা বিলুপ্ত হয়। এতে মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নারায়নগঞ্জ, নরসিংদী ও মুন্সিগঞ্জ মহকুমা জেলায় পরিণত হয় এবং তৎকালীন ঢাকা জেলা বর্তমান রূপ লাভ করে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা মোঘল-পূর্ব যুগে কিছু গুরুত্বধারন করলেও শহরটি ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করে মোঘল যুগে। ঢাকা নামের উৎপত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট করে তেমন কিছু জানা যায় না। এ সম্পর্কে প্রচলিত মতগুলোর মধ্যে কয়েকটি হলোঃ

  • একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ঢাক গাছ (বুটি ফুডোসা) ছিল;
  • রাজধানী উদ্বোধনের দিনে ইসলাম খানের নির্দেশে এখানে ঢাক অর্থাৎ ড্রাম বাজানো হয়েছিল;
  • ‘ঢাকাভাষা’ নামে একটি প্রাকৃত ভাষা এখানে প্রচলিত ছিল;
  • রাজতরঙ্গিণী-তে ঢাক্কা শব্দটি ‘পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে উল্লেখিত হয়েছে অথবা এলাহাবাদ শিলালিপিতে উল্লেখিত সমুদ্রগুপ্তের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ডবাকই হলো ঢাকা।

কথিত আছে যে, সেন বংশের রাজা বল্লাল সেন বুড়িগঙ্গা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্রমণকালে সন্নিহিত জঙ্গলে হিন্দু দেবী দুর্গার বিগ্রহ খুঁজে পান। দেবী দুর্গার প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ রাজা বল্লাল সেন ঐ এলাকায় একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। যেহেতু দেবীর বিগ্রহ ঢাকা বা গুপ্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাই রাজা মন্দিরের নাম ঢাকেশ্বরী মন্দির। মন্দিরের নাম থেকেই কালক্রমে স্থানটির নাম ঢাকা হিসেবে গড়ে ওঠে।আবার অনেক ঐতিহাসিকদের মতে, মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীর যখন ঢাকাকে সুবা বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন সুবাদার ইসলাম খান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ শহরে ‘ঢাক’ বাজানোর নির্দেশ দেন। এই ঢাক বাজানোর কাহিনী লোকমুখে কিংবদন্দির রূপ ধারণ করে এবং তা থেকেই এই শহরের নাম ঢাকা হয়ে যায়। এখানে উল্লেখ্য যে, ১৬১০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলাম খান চিশতি সুবাহ বাংলার রাজধানী রাজমহল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করেন এবং সম্রাটের নামানুসারে এর নামকরণ করে জাহাঙ্গীরনগর। Continue reading “ঢাকা বিভাগের জেলাসমূহের নামকরণের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”

হীরের হার

এক স্বর্ণকারের মৃত্যুর পর তার পরিবারটা বেশ সংকটে পড়ে গেল। খাদ্য-বস্ত্রে দেখা দিল চরম অভাব।

স্বর্ণকারের বিধবা স্ত্রী তার বড় ছেলেকে একটা হীরের হার দিয়ে বললোঃ এটা তোর কাকুর দোকানে নিয়ে যা, বলবি যে এটা বেচে কিছু টাকা দিতে। ছেলেটা হারটি নিয়ে কাকুর কাছে গেল।

কাকু হারটা ভালো করে পরীক্ষা করে বললোঃ বেটা, তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজার খুবই মন্দা, কয়েকদিন পর বিক্রি করলে ভাল দাম পাওয়া যাবে।

কাকু কিছু টাকা ছেলেটিকে দিয়ে বললেনঃ আপাতত এটা নিয়ে যাও আর কাল থেকে তুমি প্রতিদিন দোকানে আসবে আমি কোন ১দিন ভাল খদ্দোর পেলেই যেন তুমি দৌড়ে হার নিয়ে আসতে পার তাই সারাদিন থাকবে।

পরের দিন থেকে ছেলেটা রোজ দোকানে যেতে লাগলো। সময়ের সাথে সাথে সেখানে সোনা-রুপা-হীরে কাজ শিখতে আরম্ভ করলো। ভাল শিক্ষার ফলে অল্প দিনেই খুব নামি জহুরত বনে গেল। দূর দূরান্ত থেকে লোক তার কাছে সোনাদানা বানাতে ও পরীক্ষা করাতে আসত। খুবই প্রশংসীত হচ্ছিল তার কাজ। একদিন ছেলেটির কাকু বললোঃ তোমার মাকে গিয়ে বলবে যে এখন বাজারের অবস্থা বেশ ভালো, তাই সেই হারটা যেন তোমার হাতে দিয়ে দেন। এখন এটা বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যাবে। Continue reading “নকল হীরের হার উদঘাটন এবং আত্বীয় সম্পর্ক রক্ষা”

কদিন আগে ইনবক্সে একজন প্রশ্ন করেছিল ‘দুটো ঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যার লসাগু গসাগু কেমন হবে’ এই ব্যাপারটা নিয়ে। আরেকজন প্রশ্ন করেছে একটা সংখ্যা শূন্য হলে গসাগু কেমন হবে? এটা নিয়ে ছেলেবেলায় আমার নিজেরও দ্বিধা ছিল, এখন নেই। তাই ভাবলাম এখানে স্ট্যাটাস আকারে দিয়ে দিই। যারা জানতে চাও, জেনে নিয়ো, আর পারলে অন্যদের জানিয়ে দিয়ো।

ধরো, তোমায় কেউ জিজ্ঞেস করলো ১২ এবং -১৬ এর লসাগু বা গসাগু কত? ১৬ এর আগের ঋণাত্মক চিহ্ন দেখে মোটেই ঘাবড়ে যাবে না। জেনে রেখো, লসাগু বা গসাগু এমনভাবে সংজ্ঞায়িত যে, এরা কখনো ঋণাত্মক হয় না। ঋণাত্মক চিহ্নটা বাদ দিয়ে চিন্তা করলেই চলবে। মানে হলো ১২ আর ১৬ এর গসাগু যা, ১২ আর -১৬ এর গসাগুও তাই, -১২ আর ১৬ এর গসাগুও একই, -১২ আর -১৬ এর গসাগুও ঐ একই। এদের সবারই গসাগু ৪। লসাগুর ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একইরকম, সবক্ষেত্রেই লসাগু হবে ৪৮। ঋণাত্মক চিহ্ন বাদ দিয়ে ভাবলেই ঝামেলা শেষ। কিন্তু কেন এরকম? Continue reading “ঋণাত্মক পূর্ণসংখ্যার লসাগু এবং গসাগু”

বিজ্ঞানী টেসলার অজানা কথা

টেসলা জন্মগ্রহণ করেন ১৮৫৬ সালের জুলাই এর ১ তারিখে, ক্রোয়েশিয়ার একটি গ্রামে। তিনি মূলত একজন সার্বিয়ান-আমেরিকান। তিনি একাধারে একজন প্রকৌশলী, আবিষ্কারক এবং পদার্থবিদ। টেসলা মূলত দিক পরিবর্তী বা পর্যায়ক্রমিক বিদ্যুৎ প্রবাহে (Alternating Current) তার অবদানের জন্য চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

টেসলা অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। তিনি তার জীবনের শেষ ১০ টি বছর কাটান হোটেল নিউ ইয়র্কের ৩৩২৭ নম্বর রুমে। তার মরদেহ এই রুম থেকেই উদ্ধার করা হয় পরে। তার জীবনের উপর ভিত্তি করে বহু উপন্যাস লেখা আর সিনেমা বানানো হয়েছে। ১৯৬৩ সালে তড়িৎ চৌম্বক ক্ষেত্রের একক হিসেবে ‘টেসলা’ কে এস আই ইউনিটে আন্তর্জাতিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়।

টেসলার এসব আবিষ্কারের কথা তো সবারই জানা। চলো আজকে জেনে আসি টেসলার কিছু বিচিত্র তথ্য। এই তথ্যগুলো অনেকেরই অজানা। Continue reading “বিজ্ঞানী টেসলার সম্পর্কে কিছু কথা ও তার মৃত্যু রহস্য”

Crocodile Farming

২০০২ সালের জুলাই মাসে চাকরী ছেড়ে আমার গুরুর সাথে দেখা করতে গেলাম। আমার গুরু রম্য ভাই জিজ্ঞেস করল কি করবি? বললাম বন্যপ্রাণী নিয়ে কিছু করবো। ধানমণ্ডি আট নাম্বার ব্রিজের দক্ষিণ দিকে দাঁড়িয়ে দুইজনে সিগেরেট খাচ্ছিলাম। গুরু বললো কুমিরের ফার্ম কর। কথাটা পছন্দ হলো। এখনকার সাম্পান রেস্টুরেন্ট এর পাশে তখন একটা সাইবার ক্যাফে ছিল, ওখানে বসে ঘাটাঘাটি শুরু করলাম। সেই শুরু বাংলাদেশের প্রথম কুমিরের ফার্মের।

আমি কখনো বায়োলজি পড়াশুনা করিনি। কিন্তু সুন্দরবনে গাইড হিসাবে কাজ করার সুবাদে অনেক প্রাণী বিজ্ঞানীকেই চিনতাম। কুমিরের ফার্মের চিন্তা মাথায় ঢোকার পর প্রথমেই গেলাম আনিস ভাইয়ের কাছে। আনিস ভাই আমাকে লাঞ্চ করতে নিয়ে গেলেন আর প্রাথমিক ধারনা দিলেন। ডঃ রেজা খান সারের কথা বললেন, রমুলাস হুইটেকার এর কথা বললেন, আর বললেন কোথায় নিয়ম কানুন গুলো জানা যাবে।

আনিস ভাইয়ের সাথে কথা বলার পর আমার উৎসাহ আরো বেড়ে গেলো। যোগাযোগ করলাম রেজা খান স্যার এর সাথে। রেজা খান স্যার কে আমি ই-মেইল এ নানা রকম প্রশ্ন করি, উনি উত্তর দিতেন। ইন্টারনেট এ ঘাটাঘাটি করে CSG (Crocodile Specialist Group) এর কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করলাম।এই যোগাযোগের উপর ভিত্তি করেই ২০০২ সালের নভেম্বর নাগাদ একটা business plan দাঁড় করিয়ে ফেললাম। হিসাব করে দেখলাম আমার প্রয়োজন এক মিলিয়ন ডলার আর ১৪/১৫ একর জমি। রেজা খান স্যার একটা স্কেচ পাঠালেন, কুমীরের বাণিজ্যিক ফার্মে কি কি থাকতে হবে তার লিস্ট দিয়ে। ঐ সময়ে USAID এর একটা প্রোজেক্ট agro business plan competition আয়োজন করে। ওখানে বলা ছিল প্রথম দশজনকে পরকল্পনা বাস্তবায়নে USAID সহায়তা করবে। Continue reading “বাণিজ্যিকভিত্তিতে কুমির চাষ এবং সফলতার গল্প”

ব্যাংক ডাকাতি এবং ডাকাতদলের অন্তহীন আপসোস

ফ্রান্সের এক ব্যাংকে ডাকাতির সময় – ডাকাত দলের সর্দার বন্দুক হাতে নিয়ে সবার উদ্দেশ্যে বললো, “কেউ কোন নড়াচড়া করবেন না, টাকা গেলে যাবে সরকারের কিন্তু জীবন গেলে যাবে আপনার। তাই ভাবনা চিন্তা করে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করুন।”

এই কথা শোনার পর, সবাই শান্ত হয়ে চুপচাপ মাথা নিচু করে শুয়ে পড়েছিল।

এই ব্যাপারটাকে বলে “Mind Changing Concept” অর্থাৎ মানুষের ব্রেইনকে আপনার সুবিধা অনুযায়ী অন্যদিকে কনভার্ট করে ফেলা।

 

সবাই যখন শুয়ে পড়েছিল, তখন এক সুন্দরী মহিলার অসাবধানবশত তার কাপড় পা থেকে কিছুটা উপরে উঠে গিয়েছিল। ডাকাত দলের সর্দার তার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল, “আপনার কাপড় ঠিক করুন! আমরা ব্যাংক ডাকাতি করতে এসেছি, রেপ করতে না।”

এই ব্যাপারটাকে বলে “Being Professional” অর্থাৎ আপনি যেটা করতে এসেছেন, ঐটাই করবেন। যতই প্রলোভন থাকুক অন্যদিকে মনোযোগ দেওয়া যাবে না। Continue reading “ব্যাংক ডাকাতি এবং ডাকাতদলের অন্তহীন আপসোস”

আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে – এই বাংলায়

হয়তো মানুষ নয় – হয়তো বা শাঁখচিল শালিকের বেশে,

হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিঁকের নবান্নের দেশে

কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব কাঁঠাল ছায়ায়।

হয়তো বা হাঁস হবো – কিশোরীর – ঘুঙুর রহিবে লাল পায়

সারাদিন কেটে যাবে কলমীর গন্ধভরা জলে ভেসে ভেসে।

আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে

জলঙ্গীর ঢেউ এ ভেজা বাংলারি সবুজ করুণ ডাঙ্গায়। Continue reading “আবার আসিব ফিরে”

ভূমি জরিপ বিষয়ক শব্দ

ভূমি জরিপ 

জরিপ আইনের সংজ্ঞা মতে- মৌজা ভিত্তিক ভূমির রেকর্ড তথা খতিয়ান ও নকশা প্রস্তুতের কার্যক্রমকে ভূমি জরিপ বলে।

নকশা 

কোনো মৌজার অন্তর্ভূক্ত ভূমির বাস্তব চিত্র হলো উক্ত ভূমির নকশা।

মৌজা 

ভূমি জরিপের একটি ভৌগলিক ইউনিট কে মৌজা বলে। একটি মৌজা আনুমানিক ভাবে একটি গ্রামের সমান বা এর চেয়ে কিছুটা ছোট বড় হয়। ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভের (সি.এস.) সময়ে এক একটি মৌজা এলাকাকে পৃথকভাবে পরিচিত নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে মোট মৌজার সংখ্যা হচ্ছে ৬৯,৯৯০টি।

জে,এল নং 

জুরিসডিকশন লিস্ট নম্বর থানা বা উপজেলার অন্তর্গত মৌজা সমূহের পরিচিতি মূলক ক্রমিক নম্বর। মৌজার উত্তর পশ্চিম কোন থেকে জে,এল নম্বর দেয়া শুরু হয় এবং দক্ষিণ কোণে গিয়ে শেষ হয়। Continue reading “ভূমি জরিপ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ শব্দ ও সংজ্ঞা”

MCQ Submission Form

আমরা সবাই জানি, এমসিকিউ একাডেমিতে পড়াশুনা করা এবং পরিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তা পরিমাপ করা যায়। কিন্তু অনেকেই জানি না এমসিকিউ একাডেমিতে যে পরিমান প্রশ্ন আছে তার একটি বড় অংশ আসে ষ্টুডেন্টদের কাছ থেকে। হ্যা, এখানে চাকুরী প্রত্যাশী এবং স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করার জন্য যেমন পড়াশুনা করে থাকে ঠিক তেমনি তাদের মাথায় নতুন কোন প্রশ্ন থাকলে তা প্রকাশ করার জন্য সাবমিট করে থাকেন। অনেকেই প্রশ্ন সাবমিট করার সঠিক নিয়ম না জানার কারনে নতুন প্রশ্ন সাবমিট করতে আগ্রহ বোধ করেন না, যদিও প্রশ্নটি হয়তো একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে হয়ে থাকে। তাই  এমসিকিউ একাডেমিতে প্রশ্ন সাবমিট করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে এই লেখার মাধ্যমে আলোচনা করবো। Continue reading “এমসিকিউ একাডেমিতে প্রশ্ন সাবমিট করার পদ্ধতি (ধাপে ধাপে)”

ভূমি জরিপ বা ল্যান্ড সার্ভে একটি টেকনিক্যাল কার্যক্রম। এর সাহায্যে একটি এলাকার বা নির্দিষ্ট ভূমিখন্ডের একটি নির্দিষ্ট স্কেলে নির্দিষ্ট মানের কাগজে পরিমাপ গ্রহণক্রমে এর অবস্থান, আয়তন ও সীমানা নির্ণয় করা হয়। এরূপ কার্যক্রম এর মাধ্যমে একটি মৌজার নকশা তেরি হয় এবং পরবর্তীতে এর উপর ভিত্তি করে ভূমি খন্ডের দখল ও মালিকানার বর্ণনা নিয়ে একটি খতিয়ান প্রণীত হয়। এ দু’টো মিলে রেকর্ড অব রাইট বা স্বত্বলিপি প্রস্তুত হয়। ভূমি জরিপ সুষ্টভাবে সম্পন্ন করা না গেলে সরকারের জমি যেমন অবৈধ দখল হয়ে যেতে পারে, তেমনি ব্যক্তিগত জমির ক্ষেত্রে জমির মালিকানা সমস্যা হতে পারে। যা জাতীয় ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা হিসেবে ভয়ংকর আকার ধারণ করতে পারে।

ভূমি জরিপের উদ্দেশ্যঃ

জরিপ কার্যক্রম সাধারণত জেলাভিত্তিক পরিচালনা করা হয়। জেলার বা সুনির্দিষ্ট কোন এলাকা বা মৌজার প্রত্যেক ভূখন্ড সরেজমিনে পরিমাপ করে নির্দিষ্ট স্কেল অনুসারে এর অবস্থান এাবং আয়তন সম্বলিত একটি মৌজা নকশা প্রণয়ন করে প্রত্যেক ভূখন্ডের মালিক, দখলদার, জমির পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ, জমির শ্রেণী এবং চৌহদ্দি নির্দেশক রেকর্ড বা খতিয়ান প্রণয়ন করাই জরিপ কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। নতুন মৌজা নকশা প্রণয়ন এবং জমির মালিকানা জমির বিবরন সম্বলিত খতিয়ান প্রণয়ন করা জরিপের অন্যতম কাজ। Continue reading “ভূমি জরিপের খুটিনাটি”

জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতার অবশ্য জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই করা প্রয়োজন। কারন অনেকে সময় লক্ষ্য করা যায়, জমি ক্রয় করার পর তা দখলে যাওয়া মুশকিল হয়ে যায়। কারণ হিসেবে দেখা গেছে জমির বর্তমান দখলকারী যিনি বিক্রি করছেন তিনি আসলে প্রকৃত মালিক নন। অথবা, জমির সম্পূর্ণ বা পুরো মালিক বিক্রেতা নয়। এরকম কিছু বিষয় এড়ানো জন্য এবং খুব বড় পরিমাণে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার আগেই জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাইকরণ আপনার জানা অব্যশই বাধ্যতামূলক।

জমি ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার নিকট হতে প্রাপ্ত মালিকানা সম্পর্কীয় দলিলাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখতে হবে। বিক্রেতার বর্তমান মালিকানা কিভাবে প্রাপ্ত এবং কতটুকু তা আপনার জানা প্রয়োজন। বিক্রেতা যদি ওয়ারিশসূত্রে সম্পত্তির মালিক হয়, তাহলে তার পূর্বশুরিদের অর্থাৎ পূর্ববর্তী মালিকদের ধারাবাহিক ও বংশানুক্রমিক একটি তালিকা তৈরি করতে হবে। তালিকা তৈরির পর, পূর্ববর্তী মালিকদের বৈধ মালিকানা যাচাই করতে হবে। পূর্ববর্তী মালিকদের মালিকানা অতীত সময়ের কোন পর্যায়ে মালিকানা সংকুচিত বা মালিকানা খর্ব হয়েছে কি না যাচাই করতে হবে। জমির প্রারম্ভিক মালিক থেকে বর্তমান মালিক পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয়, ওয়ারিশ, দান বা হেবা সংক্রান্ত বিষয়গুলো যাচাই করে দেখতে হবে। Continue reading “জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাইকরণ”

ভূমি পরিমাপ

ভূমি পরিমাপের জন্য Standard Measurement  যা “সরকারি মাপ” বলে যা পরিচিত, তার জন্য নিন্ম পরিমাপ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এই পরিমাপ সারাদেশে সর্বজন গৃহীত।

  1. ডেসিমেল বা শতাংশ বা শতক
  2. কাঠা,
  3. বিঘা এবং
  4. একর

ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় দলিলাদি লিখন, সরকারি হিসাব ও অফিসের কাজ ইত্যাদি যাবতীয় বিষয়ে ভূমির পরিমাপে এই পদ্ধতিতেই লিপিবদ্ধ করা হয়। তবে জমি মাপ ঝোঁক করার পূর্বে, আমরা কিছু পরিমাপের পদ্ধতি চর্চা করব। Continue reading “ভূমি বা জমির পরিমাপ পদ্ধতি”

© 2018 Micro Solutions Bangladesh and/or MCQ Academy.