ভূমি জরিপ 

জরিপ আইনের সংজ্ঞা মতে- মৌজা ভিত্তিক ভূমির রেকর্ড তথা খতিয়ান ও নকশা প্রস্তুতের কার্যক্রমকে ভূমি জরিপ বলে।

নকশা 

কোনো মৌজার অন্তর্ভূক্ত ভূমির বাস্তব চিত্র হলো উক্ত ভূমির নকশা।

মৌজা 

ভূমি জরিপের একটি ভৌগলিক ইউনিট কে মৌজা বলে। একটি মৌজা আনুমানিক ভাবে একটি গ্রামের সমান বা এর চেয়ে কিছুটা ছোট বড় হয়। ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভের (সি.এস.) সময়ে এক একটি মৌজা এলাকাকে পৃথকভাবে পরিচিত নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। বাংলাদেশে মোট মৌজার সংখ্যা হচ্ছে ৬৯,৯৯০টি।

জে,এল নং 

জুরিসডিকশন লিস্ট নম্বর থানা বা উপজেলার অন্তর্গত মৌজা সমূহের পরিচিতি মূলক ক্রমিক নম্বর। মৌজার উত্তর পশ্চিম কোন থেকে জে,এল নম্বর দেয়া শুরু হয় এবং দক্ষিণ কোণে গিয়ে শেষ হয়।

খতিয়ান

খতিয়ার শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে নেয়া। ‘খত’ শব্দের অর্থ লিখন/পত্র। অর্থাৎ একটি মৌজার এক বা একাধিক ভূমি মালিকের বিবরণ তথা ভূমির পরিমাণ শ্রেণী, হিস্যা ইত্যাদি যে পৃথক পরিচিতি নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। খতিয়ান হলো নিখুত মালিকানা স্বত্ব ও দখলী স্বত্বের প্রমাণ্য দলিল Record of Roghts বা স্বত্বলিপি বলে। খতিয়ানের তৌজি নম্বর, জে,এল নং স্বত্বের বিবরন, মালিকের নাম, পিতার নাম, ঠিকানা এবং অপর পৃষ্ঠায় দাগ নম্বর, দাগের উত্তর সীমা, ভূমির শ্রেণী, দখলকারের নাম, ভূমির পরিমাণ, হিস্যা লিপি বদ্ধ থাকে।

জমির দাগ নম্বর

একটি মৌজার বিভিন্ন মালিকের বা একই মালিকের বিভিন্ন শ্রেণ্যীভুক্ত জমিকে নকশায় পৃথক পরিচিতি নম্বর দ্বারা চিহ্নিত করা হয় তাকে দাগ নম্বে বলে। মৌজা ম্যাপের উত্তর –পশ্চিম কোণ থেকে দাগ নম্বর প্রদান শুরু হয় এবং দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে এসে শেষ হয়।

ছুট দাগ

নকশায় দাগ নম্বর বসানোর সময় ভূলক্রমে কোন একটি সংখ্যা বাদ পড়লে অর্থাৎ ছুটে গেলে তাকে ছুট দাগ বলে। যেমন ১৬,১৭,১৮ দাগ নম্বর দেয়ার পর ২০,২১ নম্বর দেয়া। এখানে ১৯ নম্বর ছুট দাগ।

বাটা দাগ

ভুল বশতঃ নকশায় কোন দাগ বাদ পড়লে মৌজার শেষ প্লট নম্বরটির পরের নম্বর নীচে লিখে অথবা বাদ পড়া প্লটের ঠিক উপরের প্লটের নম্বরটি উপরে লিখে ভগ্নাংশের ন্যায় প্রাপ্ত যে নম্বর দিয়ে বাদ পড়া পলটটি চিহ্নিত করা হয় তাকে বাটা দাগ বলে।

পর্চা

ভূমি জরিপকালে চূড়ান্ত খতিয়ানের প্রস্তুত করার পূর্বে ভূমি মালিকদের নিকট খসড়া খতিয়ানের যে অনুলিপি ভূমি মালিকদের প্রদান করা হয় “মাঠ পর্চা” বলে। এই মাঠ পর্চা রাজস্ব াফিসার কর্তৃক তসদিক বা সত্যায়ন হওয়ার পর যদি কারো কোনো আপত্তি থাকে তাহলে শুনানির পর খতিয়ান চূড়ান্ত খতিয়ানের অনুলিপিকে পর্চা বলে।

হোল্ডিং

একটি খতিয়ানে একটি দাগ থাকতে পারে, আবার একাধিক দাগও থাকতে পারে। খতিয়ানের অন্তর্ভূক্ত ভূমিকে হোল্ডিং বলে। হোল্ডিং এর পরিচিতি নম্বরকে হোল্ডিং নম্বর বলে।

দাখিলা

ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের তহশীল অফিস হতে ভূমি মালিককে যে রশিদ “রেন্ট রিসিটৎ (আর.আর) দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।

ড.সি.আর বা Duplicate carbon receipt 

ভূমি উন্নয়ন কর ব্যতীত অন্যান্য সরকারী পাওনা আদায়ের জন্য যে রশিদ দেয়া হয় তাকে ডি.সি.আর বলে। উন্নয়ন কর বহির্ভূত সরকারী আয়ের জন্য দেওয়া রশিদ যাহা দাখিলা নয় তাই ডি.সি.আর। যেমন- জলাশয়, বাজার, জলমহল ইত্যাদি।

মিউটেশন

জমিন সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র সাম্প্রতিক মালিকের নামে হালনাগাদ হওয়াকেই মিউটেশন (Mutation) বা খারিজ বলে।

কবুলিয়ত (Lease Deed)

কবুলিয়ত হচ্ছে এক ধরনের শর্তযুক্ত চুক্তিনামা। যা রায়ত কর্তৃক সরকার (পূর্বে জমিদারকে দিত) বরাবরে দেয়া হয়।

ফিল্ড বুক

জরিপের প্রয়োজনে কিস্তোয়ার কালে অফসেট গ্রহণসহ চলমান চেইনের রিডিং লিখনের জন্য যে বই ব্যবহৃত হয়, তাকে ফিল্ড বুক বলে। এটি দেখে পরবর্তিতে টেবিলে পি-৭০ সীটে স্বহস্তে নকশা অংকন করা হয়। (জরিপ চলাকালে আমিনের জন্য এর ব্যবহার নিষিদ্ধ)

ভূমি অধিগ্রহণ

কোন স্থাবর সম্পত্তি সরকারী প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে আবশ্যক হলে উক্ত সম্পত্তি জেলা প্রশাসক কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণের বিধান ভূমি অধিগ্রহণ নামে পরিচিত।

খতিয়ান ও পরচা

যখন সরকারের নিকট থাকে তা খতিয়ান, আর যখন ব্যক্তির নিকট থাকে তা পরচা।
পেরীফেরী
হাট বাজারের নকশা তৈরি সহ চতুর্সীমা নির্ধারণ করাকে পেরীফেরী বলে। হাটবাজারের আয়তন প্রতিনিয়ত সম্প্রসারিত হয়ে থাকে, এরূপ সম্প্রসারিত অংশকে বাজারের অন্তর্ভূক্ত করার লক্ষ্যে সার্ভেয়ার দ্বারা সরেজমিনে তোহামহলে চান্দিনা ভিটি ও বন্দোবস্তযোগ্য খাস জমি চিহ্নিত করে হাট বাজারের চতুর্সীমা নির্ধারণ করা।

অর্পিত সম্পত্তি

১৯৬৫ সালে পাক ভারত যুদ্ধের সময় যেসব পাকিস্তানী নাগরিক দেশ ছেড়ে ভারতে গমণ করে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সর্ভিস কর্তৃক বিধি মোতাবেক তাদের শত্রু বলে ঘোষণা করা হয় এবং তাদের এদেশে ফেলে যাওয়া সম্পত্তিকে শত্রু সম্পত্তি বলে। একইভাবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ হতে যে সকল নাগরিক স্বাধীনতার বিরোধীতা করে সম্পত্তি ত্যাগ করে এদেশ ছেড়ে চলে যায় তাদের সম্পত্তিকে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বলে। ১৯৭৪ সালে উক্ত সম্পত্তিকে অর্পিত সম্পত্তি নামকরণ করা হয়।

সি. এস. খতিয়ান (CS Ladger)

সার্ভে আইন ১৮৭৫ এবং ১৯৮৫ সালের বি.টি. এ্যাক্টের বিধান মতে আমাদের দেশে প্রথমবারের মত প্রত্যেক জমিদারের জমিদারী এলাকায় কোন চাষী রায়ত কোথায়, কি পরিমাণ, কোনো শ্রেণীর সম্পত্তি ভোগ দখল করতেন তা রেবর্ড করে বাস্তবভিত্তিক নকশা অংকন এবং সংশ্লিষ্ট দখলকারের নাম উল্লেখপূর্বক খতিয়ান বা রেকর্ড অব রাইট বা “স্বত্বলিপি” প্রণয়ন করা হয়। স্বত্বলিপি প্রণয়নের এই পদ্ধতিটিই হলো “ক্যাডাস্ট্রাল সার্ভে অপারেশন” সংক্ষেপে সি. এস. জরিপ।

সি. এস. জরিপ/রেকর্ড (Cadastral Survey)

“সিএস” হলো Cadastral Survey (CS) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। একে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জরিপ বলা হয় যা ১৮৮৮ (ভূমি মন্ত্রণালয় অুনসারে ১৮৮৭) সাল হতে ১৯৪০ সালের মধ্যে পরিচালিত হয়। এই জরিপ ১৮৮৫ সালের বঙ্গীয় প্রজাতন্ত্র আইনের ১০ম পরিচ্ছেদে অনুসারে সিলেট ও পার্বত্য জেলা ব্যতীত সারা দেশে পরিচালিত হয়। উক্ত জরিপের মাধ্যমে জমির বিস্তারিত মৌজা নকশা (ম্যাপ) প্রস্তুত করা হয় এবং প্রত্যেক মালিকের জন্য দাগ নম্বর উল্লেখপুর্বক ভূমির বাস্তব অবস্থা, আয়তন, শ্রেণী, পরিমাণ, খাজনার পরিমাণ ইত্যাদি উল্লেখপূর্বক খতিয়ান প্রস্তুত করা হয়। এ জরিপ পি-৭০ সীটে কিস্তোয়ারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

সিএস জরিপ ১৮৮৮ সালে কক্সবাজারের রামু থানা হতে আরম্ভ হয় এবং ১৯৪০ সালে দিনাজপুর জেলায় শেষ হয়। সে সময়ে সিলেট জেলা আসাম প্রদেশের অধীন থাকায় সিলেট জেলায় সিএস জরিপ হয়নি। তবে জরুরী বিবেচনায় ১৯৩৬ সালের সিলেট প্রজাস্বত্ব আইনের (Sylhet tenancy Act) আওতায় সিলেট জেলার ক্যাডাষ্ট্রাল সার্ভে ১৯৫০ সালে আরম্ভ করা হয় এবং পরবর্তীতে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর অধীনে ঐ জরিপ ১৯৬৩ সালে শেষ হয়।

সি.এস. জরিপে সময় প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে জমিদারগণের নাম খতিয়ানের উপরিভাগে এবং দখলকার রায়তের নাম খতিয়ানের নিচে লেখা হত। সে সময় জমিদারগণ সরকার পক্ষে জমির মালিক ছিলেন এবং রায়তগণ প্রজা হিসেবে শুধুমাত্র ভোগ দখলকার ছিলেন।

প্রথম জরিপ এই জরিপ এবং প্রস্তুতকৃত নকশা ও খতিয়ান খুবই নিখুঁত ও নির্ভরযোগ্য হিসেবে এখনো গ্রহণীয়। মামলার বা ভূমির জটিলতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই জরিপকে বেস হিসেবে অনেক সময় গণ্য করা হয়।

ডি. এস. খতিয়ান (DS Ladger)

সি. এস. জরিপ কার্যক্রম জেলা ভিত্তিক হওয়ায় একে ডিস্ট্রিক্ট সার্ভে বা ডি. এস. জরিপ এবং জরিপের মাধ্যমে প্রণীত খতিয়ানকে ডি. এস. খতিয়ান বলে। সি, এস. এবং ডি. এস. খতিয়ান একই খতিয়ান বা জরিপ।

এস. এ. খতিয়ান (SA Ladger)

“জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০” এর ভিত্তিতে জমিদারী অধিগ্রহণ, দখলকার রায়তদের ভূমির মালিক হিসাবে সরকারের অধীনে আনয়ন ও মালিকানার স্বীকৃতিদান, বিলুপ্ত জমিদারীর ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যে জমির পরিমাণ নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ তালিকা (Compenstion Assessment Roll) সংক্ষেপে সি. এস. রোল প্রস্তুতের জন্য একটি জরিপের প্রয়োজন দেখা দেয়। যার প্রেক্ষিতে ১৯৫৬-৬২ সালের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ কার্যক্রম চালানো হয়। যার নাম ষ্ট্রেট এ্যাকুইজিশন (State Acquisition) সংক্ষেপে এস. এ. জরিপ। এই জরিপের রেকর্ডের ভিত্তিতে এস. এ. খতিয়ান তৈরি করা হয়, প্রতি খতিয়ানের মাত্র তিনটি করে কপি হাতে লিখে তৈরী করা হয়। যার এক কপি জেলা রেকর্ডরুম. এক কপি উপজেলা রাজস্ব অফিস ও এক কপি তহসিল অফিসে রাখা হয়। অত্যন্ত স্বল্প সময়ে প্রস্তুত, হাতে লেখা ইত্যাদি কারণে এস.এ. খতিয়ার সার্বিকভাবে ত্রুটিমুক্ত হয়নি।

এস. এ. জরিপ (State Acquisition Survey)

১৯৫০ সালে জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পর সরকার ১৯৫৬ সালে সমগ্র পূর্ববঙ্গ প্রদেশে জমিদারী অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২/৪/১৯৫৬ তারিখে এই আইনের ৩ ধারার আওতাধীন বিজ্ঞপ্তির মূলে সরকার কর্তৃক সকল জমিদারি দখল নেয়ার পর উক্ত এ্যাক্টের ১৭ ধারা মোতাবেক যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তা এস এ খতিয়ান বলে পরিচিত ।

মূলত, জমিদারী ও মধ্যস্বত্ব বিলোপ করে জমিদারগণকে প্রদেয় ক্ষতিপূরণ তালিকা প্রণয়ন এবং ভূমি মালিকগণকে/রায়তকে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আনয়ন করার লক্ষ্যে সে সময় একটি সংক্ষিপ্ত জরিপ ও রেকর্ড সংশোধনী কার্যক্রম পরিচালিত হয় যা পরবর্তীতে এসএ খতিয়ান বলে পরিচিত পায় । ১৯৫৬ হতে ১৯৬২ পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপে ভূমি মালিকের নাম ও জমির বিবরণাদি সম্বলিত হাতেলেখা রেকর্ড/খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় । সে সময় এই রেকর্ড মোট তিন কপি প্রস্তুত করা হয় যার মধ্যে একটি জেলা রেকর্ড রুমে, এক কপি তহশলি ( ইউনিয়ন ভূমি অফিস) অফিসে এবং অন্যটি সার্কেল পরিদর্শক (উপজেলা রাজস্ব) অফিসে প্রদান করা হয় । জরুরী তাগিদে জমিদারগন হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ বা খাতিয়ান প্রণয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল।

আর. এস. খতিয়ান (RS Ladger)

জমিদারী অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ১৪৪ ধারার বিধান মতে ১৯৬৫ সালে এ জরিপ কার্যক্রম শুরু হয়। এস,এ জরিপের ভিত্তিতে প্রস্তুত খতিয়ানের ত্রুটি দূরীকরনের লক্ষ্যে মোয়াজ্জম কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে ১৯৬৫ সাল হতে বিশ বছরের মধ্যে সরকার সারাদেশে (তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানে “সংশোধনী জরিপ” (Revisional Survey) আর,এস জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

নালজমি

আবাদ যোগ্য সমতল জমিকে নাল জমি বলে।

চালা ভূমি

নালের চেয়ে উচু আবাদী ভূমি, পুকুরের পাড় ইত্যাদি এরকম ভূমিকে চাল ভূমি বলে।

হালট

জমি জমার মধ্যবর্তী চওড়া আইল বা পথ যার উপর দিয়ে চাষী হালের বলদ নিয়ে চলাফেরা করে, তাকে হালট বলে। হালট কে গোপাটও বলা হয়।

নয়ন জুলি

বাঁধ সংলগ্ন নীচু জলা ভূমিকে নয়ন জুলি বলে।

জরিপকালে ব্যবহৃত কালি/রং এর বিবরণঃ

  • খানাপুরী স্তরে ব্যবহার করা হয় – কালো কালি।
  • বুঝারত স্তরে ব্যবহার করা হয় – সবুজ কালি।
  • তসদিক স্তরে ব্যবহার করা হয় – লাল কালি।
  • আপত্তি স্তরে ব্যবহার করা হয় – ব্লু-কোবাল্ট কালি।
  • আপিল স্তরে ব্যবহার করা হয় – কালো কালি।

জমা বন্ধী (Rent Roll)

খাজনার তালিকাকে জমা বন্ধী বলে।

চর্চা জরিপ

চর্চা অর্থ চর পয়স্থি জমি বা চরের জরিপকে চর্চা জরিপ বলে। এই জরিপ করে যে নকশা তৈরি হয় তাকে বলে চর্চা নকশা।

তফসিল

জমির পরিচয় বহন করে এমন বিস্তারিত বিবরন কে তফসিল বলে। তফসিলে মৌজার নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমাণসহ যাবতীয় তথ্য সন্নেবেশিত থাকে।

হাওর

প্রাকৃতিক কারণে কোনো বিস্তীর্ণ নিম্নভূমি জলমগ্ন হলে তাকে হাওর বলে।

বাওড়

নদী তার চলমান পথ হতে গতিপথ পরিবর্তন করে অন্য পথে প্রবাহিত হলে পূর্বের গতিপথের স্রোতধারা বন্ধ হয়ে যে বিশাল জলাভূমির সৃষ্টি করে তাকে বলে বাওড়। নদীর বাক থেকে বাওড় কথার সৃষ্টি হয়েছে।

রেভিনিউ কোর্ট

এক বা একাধিক পক্ষের শুনানী নিয়ে রেভিনিউ অফিসার যখন আনুষ্ঠানিকভাবে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন তাকে রেভিনিউ কোর্ট বলে, (বিধি ৩৪, এস,এস ম্যানুয়াল-১৯৩৫) দেওয়ানী কার্য বিধির ৫(২) ধারা মতে যে আদালত কৃষি জমির খাজনা/রাজস্ব সম্পর্কে কার্যক্রম গ্রহণের এখতিয়ার রাখে তাকে বলে রেভিনিউ কোর্ট।

প্রজাবিলি

কোন জমি কোন প্রজাকে যথাযথভাবে বন্দোবস্ত করে দেওয়া হলে, তাকে প্রজাবিলি বলে।

ছানি মামলা

দেওয়ানি আদালতে কোন মামলার রায়, ডিক্রী হলে বা তদবির অভাবে মামলা খারিজ হলে রায় ডিক্রী বা খারিজ হওয়ার বিষয়টি জানার ১ মাসের মধ্যে দেওয়ানি কার্যবিধির অর্ডার ৯, রুল ৪, ৮, ৯, ১৩ অনুযায়ী আবেদনের মাধ্যমে মামলাটির পুর্বহাল ঘটানো যায়। এরূপ আবেদন মঞ্জুর হলে মামলাটি যেখানে শেষ হয়েছিল, সেখান থেকেই পুনরায় শুরু হবে। এটিই ছানি মামলা।

ফারায়েজ

মুসলিম (সুন্ন্যী) উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী কোনো মুসলিম ইন্তেকাল করলে তার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কে (ওয়ারিশগণ) কতটুকু পাবে তা সঠিকভাবে নির্ধারণ বা বণ্টন করার নামই হচ্ছে ফারায়েজ।

আসাবা (রেসিডুয়ারী)

আসাবা বা রেসিডুয়ারী শব্দের অর্থ অবশিষ্টাংশ, ভোগী মুসলিম আইনে তিন ধরনের উত্তরাধিকারের মধ্যে আসাবা এক ধরনের উত্তরাধিকারী, মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের ৬১ ধারায় অবশিষ্টাংশ ভোগী বলতে তাদের বলা হয়েছে যারা সম্পত্তির কোনো নির্ধারিত অংশ পান না কিন্তু অংশীদারদের মধ্যে নির্ধারিত অংশ বন্টনের পর অবশিষ্ট অঙ্কের উত্তরাধিকার হন।

মৌরাশি

পুরুষানুক্রমে কোনো ভূমি দখল করাকে মৌরাশি বলে।

বায়া (Vender)

বিক্রেতা, বিক্রেতার সম্পাদিত দলিলকে বলে বায়া দলিল।

মিনাহ্ (Deduction)

কম, কমতি, জমি সিকস্তি হলে তার কর আদায় স্থগিত করাকে মিনাহ্ বলে।

তৌজি

১৭৯৩ সালে প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তীয় ভূমির জন্য কালেক্টরীতে যে রেজিস্ট্রি বই থাকতো তাকে বলে তৌজি। প্রত্যেক তৌজির ক্রমিক থাকে। জমিদারের অধীনে প্রজার জোতকেও তৌজি বলা হতো।

কটকবলা

সুদের পরিবর্তে মহাজনের দখলে জমি দিয়ে ঋণ নিয়ে যে দলিল দেয়া হয় তাকে কটকবলা বলে। খাতক যতদিন টাকা পরিশোধ করবে না ততদিন মহাজন এ জমি ভোগ দখল করতে থাকে।

চান্দিনা

বাজারের ভিটি ভূমিকে চান্দিনা বলে। এটি মূলত দোকানদারের হোল্ডিং।

দিয়ারা জরিপ কি?

দিয়ারা জরিপ হলো দরিয়া সম্পর্কিত জরিপ। জেগে উঠা নতুন ভূখন্ড (চর) জেলা প্রশাসকের চাহিদার ভিত্তিতে সিকস্তি পয়স্তির কারণে ভৌগলিক সীমারেখা ও স্বত্বের পরিবর্তন হলে নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় নতুন জরিপ করা হয়। এ সমস্ত জরিপে নকশা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয়। এটি অতি পুরাতন জরিপ। ক্যাডাস্ট্রাল জরিপ আরম্ভ হয় ১৮৮৮ সালে, পক্ষান্তরে দিয়ারা জরিপ আরম্ভ হয় ১৮৬২ সালে। দিয়ারা জরিপে সাধারন জরিপের জন্য প্রযোজ্য সকল স্তর অনুসরন করে পয়স্তি ভূমির(চর) নক্সা ও রেকর্ড প্রস্তুত করা হয় দিয়ারা সেটেলমেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে ৪টি (রাজশাহী, নরসিংদী, চট্রগ্রাম ও বরিশাল) বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক অফিস ও ক্যাম্পের মাধ্যমে সারাদেশের সুনির্দির্ষ্ট কিছু মৌজায় এ জরিপ কাজ পরিচালিত হয়।