আমরা সবাই জানি, এমসিকিউ একাডেমিতে পড়াশুনা করা এবং পরিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে তা পরিমাপ করা যায়। কিন্তু অনেকেই জানি না এমসিকিউ একাডেমিতে যে পরিমান প্রশ্ন আছে তার একটি বড় অংশ দাখিল করা হয় ষ্টুডেন্টদের কাছ থেকেই। হ্যা, এখানে চাকুরী প্রত্যাশী এবং স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা নিজেদের জ্ঞান বৃদ্ধি করার জন্য যেমন পড়াশুনা করে থাকে ঠিক তেমনি তাদের মাথায় নতুন কোন প্রশ্ন থাকলে তা প্রকাশ করার জন্য সাবমিট করে থাকেন। অনেকেই প্রশ্ন সাবমিট করার সঠিক নিয়ম না জানার কারনে নতুন প্রশ্ন সাবমিট করতে আগ্রহ বোধ করেন না, যদিও প্রশ্নটি হয়তো একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে হয়ে থাকে। তাই  এমসিকিউ একাডেমিতে প্রশ্ন সাবমিট করার পদ্ধতি ধাপে ধাপে এই লেখার মাধ্যমে আলোচনা করবো।

প্রথম ধাপঃ এমসিকিউ একাডেমিতে রেজিষ্টার করা

এমসিকিউ একাডেমিতে প্রশ্ন সাবমিট করার প্রথম শর্ত হচ্ছে এমসিকিউ একাডেমিতে একটি একাউন্ট থাকতে হবে। এই একাউন্টের মাধ্যমেই এমসিকিউ একাডেমি টিম জানতে পারে আপনি কোন প্রশ্নটি সাবমিট করেছেন এবং প্রশ্ন সম্পর্কিত কারনে যোগাযগের প্রয়োজন হলে আপনার সাথে যোগাযোগ করা হয়।  নতুন একটি একাউন্ট করার জন্য উপরে-ডান দিকে Signup বাটনে ক্লিক করতে পারেন।

Register Link

Register Link at MCQ Academy

এখানে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, আপনি রেজিষ্টার ফর্ম পূরন করার পর Register বাটনে ক্লিক করা সাথে সাথে আপনার ইমেইল ঠিকানাতে  একটি ইমেইল পাঠানো হবে, যাহাতে এমসিকিউ একাডেমিতে লগইন করার জন্য পাসওয়ার্ড দেওয়া থাকবে। পাসওয়ার্ডটি অটোমেটেড জেনারেট হওয়ায় সম্পূর্ন নিরাপদ, তব উক্ত পাসওয়ার্ডটি ব্যবহার করে লগইন করার পর Account Settings পাতা থেকে আপনি যে কোন সময় পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে পারবেন।

দ্বিতীয় ধাপঃ Gravatar সাইটে রেজিষ্টার করা

Gravatar সাইটে রেজিষ্টার করা আবশ্যক না, তবে আপনার প্রফাইল পাতা এবং এমসিকিউ একাডেমি সাইটের সৌন্দর্যের জন্য হলেও সাইটটিতে রেজিষ্টার করে একটি গ্লোবাল (G Rated) প্রোফাইল ছবি আপলোড করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এমসিকিউ একাডেমি ওয়েব এপ্লিকেশনে রেজিষ্টার করার জন্য যে ইমেইলটি ব্যবহার করেছেন Gravatar সাইটটিতে রেজিষ্টার করার জন্য ঠিক সেই ইমেইলটি ব্যবহার করতে হবে।

নোটঃ প্রথম দুইটি ধাপ আমরা একবার-ই করবো পরবর্তীতে প্রশ্ন সাবমিট করার জন্য আমাদেরকে এই ধাপগুলো করার প্রয়োজন হবে না।

তৃতীয় ধাপঃ এমসিকিউ একাডেমি ওয়েব এপ্লিকেশনে (সাইটটিতে) লগইন করুন

এই পর্যায়ে যে ইমেইল ব্যবহার করে আপনি এমসিকিউ একাডেমি ওয়েব এপ্লিকেশনে রেজিষ্টার করেছিলেন এবং যে পাসওয়ার্ডটি আপনাকে ইমেইল করা হয়েছে তা ব্যবহার করে এমসিকিউ একাডেমি ওয়েব এপ্লিকেশনটিতে লগইন করুন।

চতুর্থ এবং সর্বশেষ ধাপঃ এমসিকিউ প্রশ্ন সাবমিট করা

মুলতঃ এই ধাপটির মাধ্যমেই আমরা এমসিকিউ প্রশ্ন সাবমিট করবো। উপরের ম্যানুতে Submit New MCQ লিংকে ক্লিক করে আমরা এমসিকিউ সাবমিট করার ফর্মে যাবো। এই পাতাটিতে আমরা যে ফিল্ডগুলো দেখবো তা কিভাবে পূরন করা যেতে পারে তা নিয়ে এখন বিস্তারিত আলোচনা করবো।

একটি নতুন নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন সাবমিট করার জন্য যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে তা নিচের ছবিটিতে চিহ্নিত করে দেখানো হয়েছে:

Required form fields

Required form fields are marked to submit an MCQ

নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন লেখা:

প্রশ্ন জমা দেওয়ার ফর্মটিতে “ক” এবং “খ” চিহ্নিত ফিল্ড দুইটিতে প্রশ্ন লেখা যাবে। এখন প্রশ্ন হতে পারে একই প্রশ্ন কেন দুইটি ফিল্ডে লিখতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদেরকে দুইটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

  1. প্রশ্নটি যদি এক লাইনের মধ্যে শেষ করা যায় তাহলে প্রশ্নটি “ক” চিহ্নিত ফিল্ডে লিখতে হবে অন্যথায় “খ” চিহ্নিত ফিল্ডে লিখতে হবে।
  2. প্রশ্নটিতে যদি কোন স্পেশাল চিহ্ন থাকে, গানিতিক সূত্র থাকে, বা প্রোগ্রামিং এর কোড থাকে তাহলে তা “খ” চিহ্নিত ফিল্ডে লিখতে হবে।

প্রশ্নের সৌন্দর্য্যের জন্য এবং পড়ে সহজে বুঝানোর সার্থে কিছু নিয়ম আমরা মেনে চলিঃ

(ক) শূন্যস্থান পূরন জাতীয় প্রশ্ন লেখার সময় শূন্যস্থান বোঝানোর জন্য চারটি আন্ডারস্কোর (____) ব্যবহার করবেন।

যেমনঃ

হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে (মুসলিম/খ্রিষ্টান/বৌদ্ধ) ____ জাতির পিতা বলা হয়।

নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের ভাষা পছন্দ করবেন:

আপনি যে ভাষাতে প্রশ্নটি এবং এর উত্তরগুলো লিখবেন/লিখেছেন তা পছন্দ করবেন “গ” চিহ্নিত বক্সে।

নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের বিষয় (Topic/Subject) পছন্দ করবেন:

আপনার প্রশ্নটি যে বিষয় থেকে সংগ্রহ করেছেন তা পছন্দ করবেন “গ” চিহ্নিত বক্সে। মুলতঃ বিষয় (Subject) কে আমরা Topics নামকরন করা হয়েছে। প্রশ্নের প্রকৃতি অনুযায়ী আমরা এক বা একাধিক Topic পছন্দ করতে পারি। প্রশ্নের বিষয় পছন্দের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখায় সার্থে কিছু উদাহরন নিচে দেওয়া হলোঃ

উদাহরন ১ঃ ইসলামের সর্বপ্রথম ঘর কোনটি?

এই প্রশ্নটির জন্য সবচেয়ে সহজ টপিক হলো “ইসলাম ধর্ম”। তবে একটু সৃজনশীলভাবে চিন্তা করলে দেখতে পাবেন এর জন্য “ইতিহাস” এবং “ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি” নামক আরো দুইটা টপিক রয়েছে।

উদাহরন ২ঃ রাশিয়ার মুদ্রার নাম কি?

এই প্রশ্নটির জন্য সবচেয়ে সহজ টপিক হলো “আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি”। তবে একটু সৃজনশীলভাবে চিন্তা করলে দেখতে পাবেন এর জন্য আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিকের অধীনে “ইউরোপ মহাদেশ” নামক টপিক রয়েছে, কারন প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির চেয়ে রাশিয়ার সাথে বেশী সম্পৃক্ত যা ইউরোপ মহাদেশে অবস্থিত।

উদাহরন ৩ঃ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম কি?

এই প্রশ্নটির জন্য “ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাস” এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি টপিকের অধীনে “দক্ষিন এশিয়া” টপিক দুইটি পছন্দ করে দিতে পারেন।

নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নের অধ্যায় (About/Chapter) পছন্দ করবেন:

আপনার প্রশ্নটি যে অধ্যায় থেকে সংগ্রহ করেছেন তা পছন্দ করবেন অথবা নতুন করে লিখে দিবেন “ঘ” চিহ্নিত বক্সে। মুলতঃ অধ্যায় (Chapter) কে আমরা About নামকরন করা হয়েছে। প্রশ্নের প্রকৃতি অনুযায়ী আমরা এক বা একাধিক About পছন্দ করতে পারি অথবা নতুন কোন About লিখে দিতে পারি। প্রশ্নের অধ্যায় নির্নয়ের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখায় সার্থে কিছু উদাহরন নিচে দেওয়া হলোঃ

উদাহরনঃ ইসলামের সর্বপ্রথম ঘর কোনটি?

মনেকরি, এই প্রশ্নটির জন্য “ইতিহাস” এবং “ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি” নামক দুইটা টপিক আমরা পছন্দ করেছি। এখন অধ্যায় কি পছন্দ করবো বা নতুন তৈরী করবো? যদি আপনার জানা থাকে প্রশ্নটি ইসলামের ইতিহাস এবং সংস্কৃতি বিষয়ের কোন অধ্যায় থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে তা দিবেন। যদি অধ্যায় সম্পর্কে জানা না থাকে তাহলে কি দিবেন?

এখন একটা বিষয় ভাবুন, এই প্রশ্নটা সম্পূর্ন রুপে আপনি জানেন না তাই এই ধরনের প্রশ্ন গুগলে বা কোন সার্চ ইঞ্জিন ওয়েব এপ্লিকেশনে খুজবেন, কি লিখে খুজতে চান? আমি “ইসলাম ধর্মের পবিত্র স্থান” অথবা “ধর্মীয় পবিত্র স্থান সমূহ” লিখে সার্চ ইঞ্জিন ওয়েব এপ্লিকেশনে খুজে দেখতাম। তাই, আমরা এই প্রশ্নটির জন্য এই দুইটির যে কোন একটি About হিসাবে ব্যবহার করবো।

যে সকল প্রশ্ন সাবমিট হয়ে থাকে তার প্রায় ২০%+ প্রশ্ন আমরা পাবলিশ করতে পারি না শুধু মাত্র ভালো চ্যাপটার বা About এর অভাবে। যা, আমাদের জন্য দুঃখজনক! তাই আমাদের পরামর্শ About ব্যবহারের সময় একটু বেশী যত্নবান হবেন.